খেলোয়াড় বেচে ২৫ মিলিয়ন ইউরো তুলতে সময়ের সঙ্গে লড়ছে করিন্থিয়ান্স

করিন্থিয়ান্সের বোর্ডের জন্য ঘড়ি থামছে না। ইউরোপীয় ফুটবলের প্রধান দলবদলের জানালা বন্ধ হতে বাকি আর কয়েক দিন, অথচ যাঁদের বিক্রি করা দরকার, সেই খেলোয়াড়দের জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পায়নি ক্লাবটি। লক্ষ্য ২৫ মিলিয়ন ইউরো, প্রায় ১৫ কোটি ২ লাখ রেয়াল—তীব্র আর্থিক চাপের এই সময়ে দম নেওয়ার জন্য যে অঙ্ককে অপরিহার্য ধরা হচ্ছে।
সময়ের সঙ্গে দৌড়
ইউরোপের বাজার বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর, আর শেষ মুহূর্তের দর-কষাকষিতে ভরা এই শেষ পর্যায়েই বাজি ধরছে করিন্থিয়ান্সের শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গেছে, ক্লাবের ভেতরের প্রত্যাশা—আগামী কয়েক দিনে কোনো বিদেশি ক্লাব শক্ত প্রস্তাব নিয়ে হাজির হবে, কারণ এখন পর্যন্ত বাস্তবে কিছুই এগোয়নি।
এই অপেক্ষা আকস্মিক নয়। সস্তায় চুক্তি সারতে ইউরোপীয় দলগুলো সাধারণত বিক্রেতার মরিয়া হয়ে ওঠার অপেক্ষাতেই থাকে, আর করিন্থিয়ান্স জানে—এই সমীকরণে তাদের অবস্থান দুর্বল।
প্রদর্শনীতে কারা
মূল্যবান সম্পদের তালিকাজুড়ে সমর্থকদের চেনা নাম। সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত হিসেবে আছেন ব্রেনো বিদোন, আন্দ্রে লুইজ, ইউরি আলবের্তো ও উগো সোজা; আর নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পর্যায়ে থাকা গুই নেগাও ও দিয়েগিনিয়োকে নিয়েও সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন বিদেশি স্কাউটরা।
- ইউরি আলবের্তো: অর্থনৈতিক স্বত্বের ৫০ শতাংশের জন্য লক্ষ্য ২০ মিলিয়ন ইউরো (১১ কোটি ৮৭ লাখ রেয়াল)
- উগো সোজা: ন্যূনতম মূল্যায়ন ১৩ মিলিয়ন ইউরো (৭ কোটি ৭২ লাখ রেয়াল)
- ব্রেনো বিদোন ও আন্দ্রে লুইজ: বাজারে এখনো মূল্যবান বিনিময়যোগ্য সম্পদ
সংখ্যাগুলো এলোমেলো নয়: বোর্ড যেসব অঙ্ককে কম মনে করে, তাতে দলের প্রধান নামগুলো ছেড়ে না দিয়েই তহবিলের ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টার প্রতিফলন এগুলো।
যে কারণে এই বিক্রি এত জরুরি
প্রেক্ষাপট নাটকীয়। নিজেদের খেলোয়াড়দের কাছেই ঋণ জমেছে করিন্থিয়ান্সের, আর কার্যকর তিনটি ট্রান্সফার ব্যানের কারণে এই মুহূর্তে নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনই করতে পারছে না ক্লাবটি। অর্থাৎ বিক্রি না করলে নিকট ভবিষ্যতে দলের ঘাটতিও পূরণ করা যাবে না, যা আটকে দিচ্ছে মধ্যমেয়াদি যেকোনো ক্রীড়া পরিকল্পনা।
এই পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের একটি বিক্রি হয়ে উঠত তাৎক্ষণিক স্বস্তি—বকেয়া মিটিয়ে ফিফার কাছে ক্লাবের নিয়ন্ত্রক জটিলতাও ধীরে ধীরে খুলে দিত। নেতৃত্ব জানে, সময় খুব কম, আর এ পর্যন্ত বাজারের নীরবতা উদ্বেগের বাস্তব কারণই বটে।






